সুধী,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। আমি কি ভুলিতে পারি? ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মনে এসে যায় একুশে ফেব্রুয়ারির কথা।
বিশেষ করে আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি , কিছু লিখি, বাংলা ভাষায় বই প্রকাশ করি তাদের সকলের কাছেই একুশে ফেব্রুয়ারি আলাদা তাৎপর্য নিয়ে আসে।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের মৃত্যুবরণ এর মধ্য দিয়ে যে চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, তারই সার্থক পরিণতি লাভ করেছিল বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষা নয়, পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষাকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাকে সমৃদ্ধ করার শপথ নেওয়ার দিন।
একই সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারি আরেক দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৮৪৮ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি তারিখে মহান দার্শনিক কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস প্রকাশ করেন কমিউনিস্ট ইশতেহার। সেই ঘটনাকে স্মরণ করে ২০১৯ সাল থেকে ভারতের নানা প্রান্তে, বিশ্বের প্রতিটি গোলার্ধে, প্রতিটি মহাদেশে ,অসংখ্য প্রগতিশীল প্রকাশনা সংস্থা একুশে ফেব্রুয়ারি রেড বুকস ডে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ ঐদিন সর্বত্র নিজ নিজ মাতৃভাষায় লিখিত বামপন্থী বই পাঠ ও প্রচারের উপরে জোর দেওয়া হয়। একজন বই প্রেমী মানুষ হিসেবে আপনার কাছে আমাদের আবেদন এই অনুষ্ঠানে যোগ দিন এবং আয়োজনকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলুন।
যে বইগুলো পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে –
১) পার্টি শিক্ষা সিরিজ - ৫ কর্মসূচি - (সিপিআইএম শিক্ষা সাব কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি)
২) পার্টি শিক্ষা সিরিজ - ৭ সংগঠন - (সিপিআইএম শিক্ষা সাব কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি)
৩) পার্টি শিক্ষা সিরিজ - ৩ রাজনৈতিক অর্থনীতি - (সিপিআইএম শিক্ষা সাব কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি)
৪) কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার
৫) সাম্প্রদায়িকতা ধর্ম ও মার্কসবাদ - সীতারাম ইয়েচুরি
৬) মনগড়া ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই - সীতারাম ইয়েচুরি |